International Desk প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ এএম

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। জাতিসংঘের সভাপতির দপ্তরের প্রকাশিত কর্মী তালিকায় তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আইন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী দপ্তরের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে বর্তমানে ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মী রয়েছেন এবং তাঁরা ২৯টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাইমা রহমান ছাড়াও ওই দপ্তরে বাংলাদেশের আরও পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রকাশিত কর্মী তালিকায় জাইমা রহমানের পদটি পি-৩ পর্যায়ের এবং এটি জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত আটটি পদের একটি। একই তালিকায় তাঁকে নির্বাহী দপ্তরের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে সদস্যরাষ্ট্র থেকে সাময়িকভাবে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের আলাদা শ্রেণিতে দেখানো হয়েছে। জাতিসংঘের সভাপতির দপ্তরের জীবনীতে বলা হয়েছে, জাইমা রহমান যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে আইন ও নীতিবিষয়ক কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যারিস্টার। তিনি লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশেও আইন পেশায় কাজের জন্য তিনি যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জাতিসংঘের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে আবাসন, কল্যাণ ও কর্মসংস্থান আইন এবং বাংলাদেশে সাংবিধানিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও করসংক্রান্ত কাজ রয়েছে। সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইন নিয়েও তিনি বিনামূল্যের আইনি কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জাতিসংঘের জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে। তাঁর নিয়োগের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-কে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেছেন, জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাইমা রহমানের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য জাতিসংঘের কর্মী তালিকায় তাঁর পদ, দায়িত্বের ক্ষেত্র এবং অর্থায়নের ধরন উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে তাঁকে নিয়োগের জন্য কে মনোনয়ন দিয়েছেন, নির্বাচন বা বাছাইয়ের নির্দিষ্ট ধাপ কী ছিল কিংবা সিদ্ধান্তটি কোন কর্তৃপক্ষ নিয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ কারণে তাঁর নিয়োগ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত নথি বা জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জাইমা রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে পি-৩ পর্যায়ের আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর পদটি নিয়মিত জাতিসংঘ বাজেটের অর্থায়নে পরিচালিত।