খবর প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:১০ এএম

শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক — যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধি দলের এই আগাম প্রত্যাবর্তনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিউইয়র্কে থেকে যান। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এরপর সোমবার রুবিও ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিউইয়র্ক থেকে অবিলম্বে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তাদের একজনের দাবি, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিল এবং তাদের আর সেখানে থাকার প্রয়োজন নেই বলে মনে করা হয়।আরাগচি ও তাঁর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মঙ্গলবার ভোরে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। তাঁদের কাতারের দোহা হয়ে দেশে ফেরার কথা জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলকে বহিষ্কার বা আগেভাগে চলে যাওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, নিউইয়র্ক থেকে ফেরার সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং ১৭ সেপ্টেম্বরই সেই সময়সূচি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।
ইরানি মিশন আরও দাবি করেছে, আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ভিত্তিহীন’ খবর প্রচার করছে। ফলে ইরানি প্রতিনিধি দলের নিউইয়র্ক ত্যাগের ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ, চলমান সংঘাত এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানি প্রতিনিধি দলকে আগেভাগে নিউইয়র্ক ছাড়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। - এটাই আমার কাছে ভালো লাগছে